চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাণীগ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়া দশমীকে ঘিরে এমনই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা, ভক্তি, আরাধনা ও উৎসবের আনন্দ শেষে অশ্রুসজল নয়নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা।
আশ্বিনের রূপালি আলোয় বিজয়া দশমীর সকাল যখন ধীরে ধীরে উঁকি দেয়, তখন যেন বদলে যায় উৎসবের চিরচেনা রূপ। যে ঢাকের তালে কয়েক দিন ধরে মুখরিত ছিল পূজামণ্ডপ, সেই ঢাকের বোলেই বেজে ওঠে বিদায়ের করুণ সুর। আনন্দের উচ্ছ্বাসকে ছাপিয়ে ভক্তদের হৃদয়জুড়ে নেমে আসে এক গভীর শূন্যতা।
দেবীর চরণে শেষবারের মতো প্রণাম, সিঁদুর অর্পণ, মঙ্গলকামনায় প্রার্থনা আর চোখের জলে ভক্তরা বিদায় জানান দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গাকে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা সন্তানদের নিয়ে পিতৃগৃহ ছেড়ে ফিরে যান স্বামী শিবের আবাস কৈলাসে।
বাণীগ্রামের পূজামণ্ডপজুড়ে তাই ছিল আনন্দ আর বেদনার এক অপূর্ব মিশেল। নারীদের উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের বাদ্যের সঙ্গে মিশে যায় বিদায়ের আবেগ। মায়ের কাছে ভক্তদের একটাই প্রার্থনা—পৃথিবী থেকে দূর হোক অশুভ শক্তি, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার জয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তাও বহন করে এই উৎসব।
বিজয়া দশমীর বিদায়বেলায় তাই ভক্তদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় চিরচেনা সেই আকুতি—‘আসছে বছর আবার হবে।’
মা দুর্গার বিদায়ে বিষাদের ছায়া নামলেও ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে যায় আগামী বছরের নতুন প্রত্যাশা। আবারও শরতের কাশফুল ফুটবে, শিউলির সুবাসে ভরে উঠবে চারপাশ, আবারও বাজবে ঢাক, শঙ্খ আর উলুধ্বনি। আবারও মর্ত্যে আসবেন মা দুর্গা—এই বিশ্বাসেই শেষ হয় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
বিদায়ের অশ্রুতে মিশে থাকে ফিরে পাওয়ার প্রতীক্ষা। তাই বিজয়া দশমী শুধু বিদায়ের দিন নয়, এটি নতুন করে মিলনের স্বপ্ন দেখারও দিন।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাণীগ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়া দশমীকে ঘিরে এমনই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা, ভক্তি, আরাধনা ও উৎসবের আনন্দ শেষে অশ্রুসজল নয়নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা।
আশ্বিনের রূপালি আলোয় বিজয়া দশমীর সকাল যখন ধীরে ধীরে উঁকি দেয়, তখন যেন বদলে যায় উৎসবের চিরচেনা রূপ। যে ঢাকের তালে কয়েক দিন ধরে মুখরিত ছিল পূজামণ্ডপ, সেই ঢাকের বোলেই বেজে ওঠে বিদায়ের করুণ সুর। আনন্দের উচ্ছ্বাসকে ছাপিয়ে ভক্তদের হৃদয়জুড়ে নেমে আসে এক গভীর শূন্যতা।
দেবীর চরণে শেষবারের মতো প্রণাম, সিঁদুর অর্পণ, মঙ্গলকামনায় প্রার্থনা আর চোখের জলে ভক্তরা বিদায় জানান দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গাকে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা সন্তানদের নিয়ে পিতৃগৃহ ছেড়ে ফিরে যান স্বামী শিবের আবাস কৈলাসে।
বাণীগ্রামের পূজামণ্ডপজুড়ে তাই ছিল আনন্দ আর বেদনার এক অপূর্ব মিশেল। নারীদের উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের বাদ্যের সঙ্গে মিশে যায় বিদায়ের আবেগ। মায়ের কাছে ভক্তদের একটাই প্রার্থনা—পৃথিবী থেকে দূর হোক অশুভ শক্তি, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার জয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তাও বহন করে এই উৎসব।
বিজয়া দশমীর বিদায়বেলায় তাই ভক্তদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় চিরচেনা সেই আকুতি—‘আসছে বছর আবার হবে।’
মা দুর্গার বিদায়ে বিষাদের ছায়া নামলেও ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে যায় আগামী বছরের নতুন প্রত্যাশা। আবারও শরতের কাশফুল ফুটবে, শিউলির সুবাসে ভরে উঠবে চারপাশ, আবারও বাজবে ঢাক, শঙ্খ আর উলুধ্বনি। আবারও মর্ত্যে আসবেন মা দুর্গা—এই বিশ্বাসেই শেষ হয় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
বিদায়ের অশ্রুতে মিশে থাকে ফিরে পাওয়ার প্রতীক্ষা। তাই বিজয়া দশমী শুধু বিদায়ের দিন নয়, এটি নতুন করে মিলনের স্বপ্ন দেখারও দিন।

আপনার মতামত লিখুন