শহরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই গ্যাস নেওয়ার জন্য শত শত অটোরিকশা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও কোথাও লাইনের দৈর্ঘ্য কয়েকশ মিটার ছাড়িয়ে গেছে। অনেক চালক রাতের শেষ প্রহর কিংবা ভোরবেলা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েও সময়মতো গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে দিনের উল্লেখযোগ্য সময় তাদের অপেক্ষাতেই কেটে যাচ্ছে।
অটোরিকশা চালকরা জানান, আগে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে গ্যাস নিয়ে আবার যাত্রী পরিবহন শুরু করা যেত। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের স্বল্প সরবরাহের কারণে ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা, কোথাও কোথাও আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন কয়েকটি ট্রিপ কম দেওয়া হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনিক আয়ের ওপর।
একজন চালক বলেন, “দিনের অর্ধেক সময় যদি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই বাধ্য হয়ে কিছুটা বেশি ভাড়া চাইতে হয়।”
অন্যদিকে যাত্রীরা বলছেন, স্বল্প দূরত্বের যাত্রায়ও আগের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া দাবি করছেন অনেক চালক। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে যাত্রী তুলতেও অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন।
একজন যাত্রী জানান, “আগে যে পথে ১৫০ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে শুধু অটোরিকশা নয়, অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকরাও সমস্যার মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ লাইনের কারণে সড়কে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়গুলোতে ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের সারি আশপাশের সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, চাহিদার তুলনায় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তারা বলছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ফিলিং স্টেশনগুলোর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর না হলে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এতে গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন চালক, যাত্রী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রত্যাশা, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের অবসান ঘটবে, চালকদের কর্মঘণ্টা ও আয় স্বাভাবিক হবে এবং যাত্রীদেরও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে না। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
শহরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই গ্যাস নেওয়ার জন্য শত শত অটোরিকশা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও কোথাও লাইনের দৈর্ঘ্য কয়েকশ মিটার ছাড়িয়ে গেছে। অনেক চালক রাতের শেষ প্রহর কিংবা ভোরবেলা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েও সময়মতো গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে দিনের উল্লেখযোগ্য সময় তাদের অপেক্ষাতেই কেটে যাচ্ছে।
অটোরিকশা চালকরা জানান, আগে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে গ্যাস নিয়ে আবার যাত্রী পরিবহন শুরু করা যেত। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের স্বল্প সরবরাহের কারণে ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা, কোথাও কোথাও আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন কয়েকটি ট্রিপ কম দেওয়া হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনিক আয়ের ওপর।
একজন চালক বলেন, “দিনের অর্ধেক সময় যদি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই বাধ্য হয়ে কিছুটা বেশি ভাড়া চাইতে হয়।”
অন্যদিকে যাত্রীরা বলছেন, স্বল্প দূরত্বের যাত্রায়ও আগের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া দাবি করছেন অনেক চালক। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে যাত্রী তুলতেও অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন।
একজন যাত্রী জানান, “আগে যে পথে ১৫০ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে শুধু অটোরিকশা নয়, অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকরাও সমস্যার মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ লাইনের কারণে সড়কে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়গুলোতে ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের সারি আশপাশের সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, চাহিদার তুলনায় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তারা বলছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ফিলিং স্টেশনগুলোর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর না হলে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এতে গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন চালক, যাত্রী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রত্যাশা, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের অবসান ঘটবে, চালকদের কর্মঘণ্টা ও আয় স্বাভাবিক হবে এবং যাত্রীদেরও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে না। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে।

আপনার মতামত লিখুন